নায়ক রহমান-আনোয়ার হোসেনদের সঙ্গে অভিনয়ও করেছেন মি’র্জা ফ’খরুল……see more

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি পরিচিত নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন এই রাজনীতিক।

বৃহস্পতিবার বিএনপি তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার পর তার রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা অধ্যায়ও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে রাজনীতির মাঠের মির্জা ফখরুলকে অনেকেই চেনেন, কিন্তু মঞ্চের অভিনেতা মির্জা ফখরুলকে চেনেন কতজন?

একসময় ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। শুধু নাটক দেখতেন না, নাটকে অভিনয় করতেন, নির্দেশনাও দিতেন। এমনকি ক্রীড়াঙ্গনেও ছিল তার সরব উপস্থিতি। প্রায়ই তিনি নানা অনুষ্ঠানে তার অভিনয় জীবনের গল্প বলেছেন। তবে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সময়ের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। সেখান থেকে জানা গেছে অনেক অজানা ও চমক জাগানিয়া তথ্য।

সেই আলাপচারিতায় উঠে আসে মির্জা ফখরুলের জীবনের একেবারে ভিন্ন এক অধ্যায়। সেখানে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার বদলে ছিল মঞ্চ, অভিনয়, সংস্কৃতি ও খেলাধুলা।

ছাত্রজীবনেই নাটকের সঙ্গে সখ্য
ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার নাট্যজীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল ফণী ভূষণ পালিদের কাছে। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রাচীন নাট্যচর্চার ইতিহাসও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের অভিষেক উপলক্ষে নাট্য সমিতিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়ে নাট্যচর্চার বিকাশ ঘটে।

মির্জা ফখরুলের নিজের ভাষায়, ‘ছাত্রজীবন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে নাটকের সঙ্গে আমি জড়িত। এই ফণী পালিদের হাতে আমার হাতেখড়ি।’

শুধু অভিনয় নয়, নাট্য নির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। অর্থাৎ মঞ্চে অভিনেতা হিসেবে যেমন দাঁড়িয়েছেন, তেমনি পেছন থেকে একটি নাটক নির্মাণের দায়িত্বও সামলেছেন।

রহমান ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মঞ্চে
মির্জা ফখরুলের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ অধ্যায়গুলোর একটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই পরিচিত তারকার সঙ্গে তাঁর মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া। খ্যাতিমান চিত্রনায়ক রহমান (আবদুর রহমান) তার মামাতো ভাই। এই চিত্রতারকার পাশাপাশি ‘ঢাকাই চলচ্চিত্রের নবাব’খ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গেও মঞ্চে অভিনয় করেছেন মির্জা ফখরুল।

বিষয়টি তার কাছে নিছক ঘটনা নয়, বরং সৌভাগ্যের স্মৃতি। তিনি জানান, তাদের সঙ্গে অভিনয় করার পাশাপাশি নাটক পরিচালনারও সুযোগ হয়েছিল তার।

রাজনীতির মঞ্চে ওঠার বহু আগেই বাস্তব মঞ্চে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার। চরিত্রে ঢুকে যাওয়া, সংলাপ বলা, দর্শকের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করা- এসব ছিল তার জীবনেরই অংশ।

শিক্ষকতা, সংস্কৃতি না রাজনীতি- কোনটি বেশি প্রিয়?
মির্জা ফখরুলের জীবনে অভিনয়ের পাশাপাশি শিক্ষকতা ও রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একসময় শিক্ষকতা করেছেন তিনি। পরে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন রাজনীতিতে। শিক্ষকতা, সংস্কৃতি ও রাজনীতি- এই তিন অভিজ্ঞতার মধ্যে কোনটি তার কাছে বেশি উপভোগ্য? উত্তরে মির্জা ফখরুল বেছে নিয়েছিলেন সংস্কৃতিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *