স্ত্রীর দুধ পান করা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, সম্মান ও পারস্পরিক দায়িত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবে অনেক সময় মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—স্ত্রীর স্তন্যদুধ (বুকের দুধ) পান করা সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী?
এ বিষয়ে ইসলামী ফকিহদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ আলেমের মতে, স্ত্রীর স্তন্যদুধ পান করা স্বাভাবিক বা উৎসাহিত কোনো কাজ নয়। এটি পরিহার করাই উত্তম। তবে যদি ভুলবশত বা বিশেষ পরিস্থিতিতে অল্প পরিমাণ স্তন্যদুধ স্বামীর মুখে চলে যায়, তাহলে এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় না এবং তারা পরস্পরের জন্য হারাম হয়ে যান না।
ইসলামী শরিয়তে দুধ-সম্পর্ক (রদাআ/রিদা’আ) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিধান মূলত দুই বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, কোনো শিশু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে কোনো নারীর দুধ পান করলে তাদের মধ্যে দুধ-সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্ত্রীর দুধ পান করলে সেই কারণে দুধ-সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না এবং বিবাহ বাতিল হয় না—এটাই অধিকাংশ আলেমের মত।
আলেমরা আরও বলেন, মুসলিম দম্পতিদের এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিত যা শালীনতা ও উত্তম চরিত্রের পরিপন্থী হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, লজ্জাশীলতা এবং ইসলামী আদবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।
সবশেষে মনে রাখা উচিত, ইসলামের মূল শিক্ষা হলো বৈবাহিক জীবনে ভালোবাসা, দয়া ও সম্মান বজায় রাখা। যে কোনো বিষয় নিয়ে সন্দেহ বা বিভ্রান্তি থাকলে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞানসম্পন্ন আলেম বা নির্ভরযোগ্য ইসলামী প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম।