স্বামীর হাত ছুটে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গেলেন স্ত্রী রুপা খাতুন, মুহূর্তেই আনন্দের যাত্রা পরিণত হলো হৃদয়বিদারক ঘটনায়
একসঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই আনন্দঘন যাত্রা রূপ নেয় এক মর্মান্তিক ঘটনায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে ওঠার সময় বা ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে স্বামী অনিকের হাত থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান তার স্ত্রী রুপা খাতুন। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে আশপাশের যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে অনিক স্ত্রীর হাত শক্ত করে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাত ফসকে যাওয়ায় রুপা খাতুন ট্রেনের নিচে বা রেললাইনের পাশে পড়ে যান।
ঘটনার পরপরই ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করেন এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই ঘটনার পর স্বামী অনিক ভেঙে পড়েন। চোখের সামনে এমন দুর্ঘটনা ঘটায় তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকের চোখেও ছিল অশ্রু।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করা, দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করা কিংবা অসতর্কভাবে যাতায়াত করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য একটি ভুল বা অসাবধানতা মুহূর্তের মধ্যেই কেড়ে নিতে পারে একটি মূল্যবান জীবন অথবা ডেকে আনতে পারে চিরস্থায়ী অনুশোচনা।
রেলপথে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, ট্রেন সম্পূর্ণ থামার পর ওঠানামা করা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা সবার দায়িত্ব। সচেতনতাই পারে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করতে।