ঢালিউড সুপারস্টার সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে মুখরোচক এবং বিভ্রান্তিকর শিরোনাম প্রায়ই দেখা যায়। সম্প্রতি ছড়ানো “আইনের চাপে সামিরা স্বীকার করেছেন যে সবকিছুর পেছনে তার শাশুড়ি নীলা চৌধুরী ছিলেন”—এমন দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন।
বাস্তবতা হলো, সালমান শাহর মৃত্যু মামলার দীর্ঘ ইতিহাস এবং আইনি লড়াইয়ে সামিরা হক ও নীলা চৌধুরীর অবস্থান পরস্পরবিরোধী:
-
আদালতে হত্যা মামলা: ১৯৯৬ সালে সালমান শাহর মৃত্যুর পর দীর্ঘ ২৯ বছর পর ঢাকার আদালত অপমৃত্যু মামলা বাতিল করে একে পূর্বপরিকল্পিত ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
-
মূল অভিযুক্ত সামিরা: সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে যে মামলাটি দায়ের করেন, সেখানে প্রধান আসামি করা হয়েছে সালমানের স্ত্রী সামিরা হককে। এতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও সামিরার মা লুসি সহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
-
বাদীপক্ষ নীলা চৌধুরী: সালমানের মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে সামিরা ও তার সঙ্গীরা জড়িত। আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নীলা চৌধুরী সন্তোষ প্রকাশ করে সামিরা সহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
-
সামিরার অবস্থান: সামিরা বা তার পরিবার কখনোই নীলা চৌধুরীকে হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর হিসেবে দায়ী করে কোনো আইনি জবানবন্দি দেননি। বরং তদন্ত সংস্থাগুলোর (যেমন পিবিআই) প্রতিবেদনে এতদিন এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, আদালত নতুন করে হত্যা মামলার নির্দেশ দেওয়ায় আইনি টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।