ক’ওমি মা’দ্রাসার ছাত্রের আবিষ্কার, তেল-গ্যাস ছা’ড়াই তৈরি হবে বিদ্যুৎ…see more

কুমিল্লার এক কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবদুর রহমান সুহাইল দাবি করেছেন, তেল, গ্যাস বা কয়লা ছাড়াই মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পদ্ধতি তিনি উদ্ভাবন করেছেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছিল এবং কোরআনের বিভিন্ন আয়াত নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক বিষয়ও পড়াশোনা করতেন।

তার ধারণা অনুযায়ী, একটি ভারী বস্তু ওপর থেকে নিচে নামবে। সেই ভারের চাপে একটি যন্ত্র বা ক্রেন ঘুরবে। আর সেই ঘূর্ণনের মাধ্যমে জেনারেটর ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হবে।

কিন্তু তার সবচেয়ে বড় দাবি হলো, ভারী বস্তুটি নিচে নামার পর আবার কোনো বাড়তি শক্তি ছাড়াই হালকা হয়ে যাবে। এরপর সেটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসে একই কাজ বারবার করবে। এভাবেই নাকি সারাক্ষণ বিদ্যুৎ তৈরি করা সম্ভব।

সুহাইলের দাবি, তিনি ২০২২ সালে এই পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে তার ধারণার কথা জানান। তার আরও দাবি, শুধু বিদ্যুৎ নয়, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের ক্ষতি কমানোর জন্য একটি নিরাপত্তা যন্ত্রও তিনি তৈরি করেছেন।

তিনি আরও দাবি করেছেন, শুধু বিদ্যুৎ নয়—কোরআন থেকে গবেষণা করে একটি নিরাপত্তা সরঞ্জামও তৈরি করেছেন, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের ক্ষতি কমাতে পারে বলে তার দাবি।

কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

মাধ্যাকর্ষণ কি সত্যিই কোনো জ্বালানি ছাড়াই অনবরত বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে?

সহজ উদাহরণ —একটি ভারী পাথর যদি ওপর থেকে নিচে পড়ে, তখন তার শক্তি দিয়ে কোনো যন্ত্র ঘোরানো সম্ভব। কিন্তু সেই পাথরকে আবার আগের জায়গায় তুলতে হলে আবার শক্তি খরচ করতে হবে।

অর্থাৎ, পাথর যতবার নিচে নামবে, ততবার তাকে ওপরে তুলতে শক্তি লাগবে। যদি কোনো বাড়তি শক্তি ছাড়াই পাথর নিজে নিজে বারবার ওপরে-নিচে চলতে থাকে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ তৈরি করে, তাহলে সেটি প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের শক্তি সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে মিলবে না।

এই কারণে দাবিটি যাচাই করতে বাস্তব প্রোটোটাইপ, পরিমাপযোগ্য আউটপুট, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা এবং শক্তির হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *