পাগলিটাও মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ—সে বলে, “আমি যখন ব্রিজের নিচে ঘুমাইতাম, আমাকে কেউ মানুষ বলে মনে করত না…”
শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছুটে চলে নিজেদের গন্তব্যে। সেই ভিড়ের মাঝেই হয়তো ফুটপাতে, কোনো ব্রিজের নিচে কিংবা রেললাইনের পাশে দেখা মেলে এক অসহায় নারীর। এলোমেলো চুল, ছেঁড়া কাপড় আর অনিশ্চিত জীবনের ভার নিয়ে বেঁচে থাকা সেই নারীকে সবাই “পাগলি” বলেই ডাকে। কিন্তু সেই পরিচয়ের আড়ালেও যে একজন মানুষ, একজন নারী, একজন মা লুকিয়ে আছেন—তা অনেকেই ভুলে যান।
সম্প্রতি কোলজুড়ে এসেছে একটি নবজাতক। শিশুটিকে বুকের কাছে আগলে রেখে তিনি শুধু একটি কথাই বলেন, “আমি যখন ব্রিজের নিচে ঘুমাইতাম, আমাকে কেউ মানুষ বলে মনে করত না। এখন আমার একটা সন্তান হয়েছে, কিন্তু তার বাবার পরিচয় কেউ দেয় না।”
তার কথাগুলো যেন সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করে। একটি শিশুর জন্মের আনন্দের পাশাপাশি উঠে আসে আরেকটি কঠিন বাস্তবতা—অসহায় ও মানসিকভাবে বিপন্ন নারীরা কতটা ঝুঁকির মধ্যে জীবন কাটান। অনেক সময় তারা নির্যাতনের শিকার হন, কিন্তু বিচার তো দূরের কথা, ঘটনাগুলো প্রকাশও পায় না।
স্থানীয়দের কেউ কেউ শিশুটির জন্য খাবার, কাপড় ও ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন। তবে শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, মা ও নবজাতকের নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা এবং সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
একটি শিশুর পৃথিবীতে আসা আনন্দের খবর। কিন্তু সেই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মা ও সন্তান দুজনই নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানবিক জীবন পায়। সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোর প্রতিও সহমর্মিতা, সুরক্ষা ও দায়িত্ববোধ দেখানো আমাদের সবার কর্তব্য।
কারণ, একজন মানুষের পরিচয় তার পোশাক, ঠিকানা বা মানসিক অবস্থায় নয়—তার মানবিক মর্যাদায়।